অনেক নাগরিক আয়কর বা রিটার্ন জমা দেন না অথবা নানা কৌশলে কর অব্যাহতি নেন, তাদের নজরদারিতে আনবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) থাকা নাগরিকদের মধ্যে যারা নিয়ম অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেন না, তাদের থেকে কর আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) নির্ধারণ করে দেবে সংস্থাটি।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ‘জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬: অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে রাজস্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি), সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হয়, সমপরিমাণ অর্থ কর অব্যাহতির কারণে চলে যায়। অন্যদিকে টিআইএন থাকলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন জমা দেন না। এ কারণে যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই যারা রিটার্ন জমা দেন না, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানান মো. আবদুর রহমান খান।
মূল প্রবন্ধ আলোচনায় ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নামলে সেটাকে বড় সফলতা হিসেবে মানা যায়। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে হয়তো সাময়িকভাবে ব্যবসা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটা খুব দরকার ছিল।’
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের সভাপতি জাবেদ আখতার বলেন, ‘ব্যবসার জন্য কঠিন পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দেয়া দরকার। একক ভ্যাট কাঠামো প্রয়োজন। কাস্টমসের দায়িত্ব কর সংগ্রহ করা নয়, তাদের কাজ ব্যবসায় সহায়তা করা।’ ব্যবসা বাড়লে রাজস্ব আহরণ এমনিতেই বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেন লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, বাংলাদেশে মারুবেনি করপোরেশনের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের যুগ্ম মহাসচিব ইউজি আন্দো, এনবিআরের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান শিকদার এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন।